শনিবার | ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

দাজ্জালকে স্বাগত জানাতে আল-আকসা ভেঙে থার্ড টেম্পল নির্মান করতে প্রস্তুত ইসরাইল।

প্রকাশিত :

এক চোখের এক ভয়ঙ্কর সত্তা যার কপালে আরবী অক্ষরে লেখা থাকবে কাফ ফা রা (ك ف ر) সে ঘুরে বেড়াবে দুনিয়ার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।

যাকে সামনে পাবে তাকেই জিজ্ঞেস করবে বলো তোমার সৃষ্টিকর্তা কে কেউ যদি তার সৃষ্টিকর্তার নাম বলে আল্লাহ তবে তার আর রক্ষা নেই সাথে থাকা তলোয়ার দিয়ে কচুকাটা করবে সেই মানুষকে।
সারা দুনিয়ায় আতংক সৃষ্টি করবে দাজ্জাল নামক ফিতনা। সে পক্ষ নেবে ই’হু’দি’দের ই’হু’দিরা তাকে মসিহ বলে ডাকবে। এ সময় মুসলিমদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়বে। ঠিক এমন অবস্থায় আকাশ থেকে নেমে আসবেন নবী ঈসা আলাইহিস সালাম। তিনি এসে দাজ্জালকে পরাস্ত করবেন। আবার ও মুসলমান জাতি বিজয় পতাকা ওড়াবে পুরো বিশ্বে।
ইসলাম ধর্মে কেয়ামতের পূর্বাবস্থায় এমন সব ঘটনা ঘটবে বলে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি দাজ্জাল এবং ঈসা মসীহ ইস্যু নিয়ে যা শুরু হয়েছে ইসরাইল-আমেরিকা তাতে নড়েচড়ে বসেছেন।
কারণ ধর্মে বলা সব ভবিষ্যৎবাণী এক এক করে মিলে যাচ্ছে। তবে কি দাজ্জালের আগমন দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব।
ঘটনাটি আর হালকা করে নেয়ার উপায় নেই কারণ ই’হু’দি’রা বলছে সেই সময় এসে গেছে। দাজ্জাল নামক মসীহ এসে তাদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে পরাক্রমশালী বানিয়ে দেয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ই’হু’দিদের পবিত্র গ্রন্থ তার মধ্যে বর্ণিত আছে তিনটি শর্ত পূরণ হলে মসীহ পৃথিবীতে নেমে আসবে।
১. সারা পৃথিবীতে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের ই’জরা’য়ে’লে এসে জড়ো  হতে হবে।

২. একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৩. আল -আকসা মসিজদ ভেঙে, একটি মন্দির নির্মাণ করতে হবে যার নাম হবে থার্ড টেম্পল।

ই’হুদি’রা বিশ্বাস করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই তারা প্রথম দুটি শর্ত পূরণ করতে পেরেছে,
অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ই’হু’দি’রা ইস’রা’ইলে একত্রিত হয়েছে সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করে ফেলেছে।
এখন বাকি আছে তৃতীয় শর্ত, সেই শর্ত পূরণ করতে হলে আল-আকসা মসজিদ ভেঙে সেখানে নির্মাণ করতে হবে সোলায়মানি মন্দির বা থার্ড টেম্পল।
এটা করার জন্য তাদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের একটি লাল গাভী তাওরাতের ভাষ্যমতে ই’হু’দি’রা বর্তমানে অপবিত্র অবস্থায় আছে, আগে তাদের জাতিগতভাবে পবিত্র হতে হবে।
পবিত্র হতে হলে তাদের একটি লাল গরু দরকার যে লাল গরু প্রতিটি পশম থাকবে লাল। আর সেই লাল গাভীর তিন বছর পূর্ণ হলে সেটিকে জবাই করে গাভীটির পুরো শরীর আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে সেই ছাই মেখে ই’হু’দি সম্প্রদায় পবিত্র হবে এভাবে পবিত্র হওয়ার পরই তারা মন্দির নির্মাণ করতে পারবেন। তারপর সেখানে নেমে আসবেন মাসীহ।
বিশ্বের কোথাও লাল গরু সন্ধান পেলে টেম্পল ইনস্টিটিউট সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে। তারা নিশ্চিত হতে চায় সেটি আসলেই সেই লাল গরু নাকি।
এতদিন পর্যন্ত কোন গরুকেই কাঙ্খিত গরু বলে তারা নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে এখন তারা বলছে কাঙ্খিত সেই লাল গরু তারা পেয়ে গেছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বনী ই’স’রা’ইল নামের সংগঠনটি গতবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঁচটি লাল গরু আমদানি করেছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে আল-আকসা মসজিদের অদূরে একটি খামারে গাভী গুলোকে রাখা হয়েছে। এই গাভী গুলো পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে গায়ে মেখে নাপাক ই’য়া’হু’দিরা পবিত্র হবে।
তারপর তারা যেকোন ভাবে আল-আকসা ধ্বংস করে তাদের টেম্পল তৈরি করবে।
যেসব প্রস্তুতি নেয়া দরকার তার সবই নেয়া হয়ে গেছে প্রস্তাবিত থার্ড টেম্পল নির্মাণের মিশনে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে টেম্পল ইনস্টিটিউট এই প্রতিষ্ঠিন মন্দিরটি নির্মাণের জন্য অনেক আগ থেকেই সাজসরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন।
মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় পুরোহিতরা যেসব পোশাক পরবেন তা আগেভাগেই তারা বানিয়ে রেখেছে।
তাওরাতের নির্দেশনা অনুযায়ী মন্দিরের জন্য তামার জলপাত্র ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে বানানো ৪৫ কেজি ওজনের আলমদানি সহ নানা ধরনের আসবাব তারা তৈরি করে রেখেছে।
ইস’রাই’ল শীগ্রই থার্ড টেম্পল নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক  সংবাদমাধ্যম (Middle East Eye) জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমটি আরো বলছে গত ৭ অক্টোবরের হামাসের আচমকা হামলা মূলত ইসরাইলের পরিকল্পনারই অংশ, যাতে প্রতিশোধের অজুহাতে আল-আকসা ভেঙে টেমপল বা মন্দির তৈরি করা যায়।
এরই মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আল-আকসা মসজিদে মুসলমানদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ই’স’রা’ই’ল।
ইস’রা’ইল যে বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সেটা না বললেও চলে। মাসীহ আসুক বা না আসুক এই মুহূর্তে যদি আল-আকসা ভেঙে  মন্দির নির্মাণ করে তবে বিশ্বের সকল মুসলিমরা ফেটে পড়বে ক্ষোভে।
ভবিষ্যদ্বাণীতে বর্ণিত সেই মহা যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন সেই মহাযুদ্ধটাই আসলে দাজ্জাল।

আজকের সর্বশেষ সব খবর